মাহফুজউল্লাহর স্মরণসভা অনুষ্ঠিত

সাংবাদিক মাহফুজউল্লাহ স্মরণে দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বুধবার জাতীয় প্রেসক্লাবে মিলনায়ত‌নে মাহফুজউল্লাহর পরিবারের পক্ষ থেকে এই মাহফিলের আয়োজন করা হয়।

দোয়া মাহফিলে মোনাজাত পরিচালনা করেন ড. এম শমশের আলী।

মাহফুজউল্লাহর স্মৃতিচারণ করে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য দেন তার কন্যা ডাক্তার নুসরাত হুমায়রা, ইংরেজি দৈনিক ডেইলি স্টার সম্পাদক মাহফুজ আনাম, সাবেক পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আবুল হাসান চৌধুরী, সাবেক রাষ্ট্রদূত আনোয়ার হোসেন, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি অধ্যাপক ডক্টর মুস্তাহিদুর রহমান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক ড. আসিফ নজরুল, ঢাকা বাংলা চ্যানেল (ডিবিসির) প্রধান নিবার্হী কর্মকর্তা মঞ্জুরুল ইসলাম, দৈনিক ভোরের কাগজের সম্পাদক শ্যামল দত্ত প্রমুখ।

দোয়া মাহফিলে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, ভাইস-চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল অবসরপ্রাপ্ত রুহুল আলম চৌধুরী, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, অধ্যাপক ডাক্তার এ জেড এম জাহিদ হোসেন, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা হাবিবুর রহমান হাবিব, শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক অধ্যাপক ডক্টর ওবায়দুল ইসলাম, সহ-প্রচার সম্পাদক কৃষিবিদ শামীমুর রহমান শামীম, নির্বাহী কমিটির সদস্য আবু নাসের মোহাম্মদ রহমতউল্লাহ, জহির উদ্দিন স্বপন, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির সাধারণ সম্পাদক খন্দকার লুৎফর রহমান, কল্যাণ পার্টির সাহিদুর রহমান তামান্না প্রমুখ অংশ নেন।

৬৯ বছর বয়সী মাহফুজউল্লাহ গত ২ এপ্রিল হৃদরোগে আক্রান্ত হলে তাকে ঢাকার স্কয়ার হাসপাতালে ভর্তি করে আইসিইউতে রাখা হয়েছিল। এরপর স্কয়ারে কয়েক দিন লাইফ সাপোর্টে থাকার পর উন্নত চিকিৎসার জন্য ১১ এপ্রিল এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে ব্যাংককে নিয়ে বামরুনগ্রাদ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তিনি হৃদরোগ, কিডনি ও উচ্চ রক্তচাপজনিত সমস্যায় ভুগছিলেন। এর আগে ব্যাংককে একবার তার বাইপাস সার্জারিও হয়েছিল। তিনি ২৭ এপ্রিল বাংলাদেশ সময় ১০টা ৫ মিনিটে ব্যাংককে ইন্তেকাল করেন।

সাংবাদিক মাহফুজউল্লাহ ১৯৫০ সালে নোয়াখালী জেলায় জন্মগ্রহণ করেন। ভারতীয় কমিউনিস্ট পার্টির প্রতিষ্ঠাতা ও কাজী নজরুল ইসলাম সম্পাদিত ‘লাঙল’ এবং ‘ধূমকেতু’ পত্রিকার প্রকাশক কমরেড মুজাফফর আহমদ ছিলেন তার নানা।

মাহফুজউল্লাহ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পদার্থবিদ্যা ও সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। তিনি তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়নের কর্মী হিসেবে ঊনসত্তরের ১১ দফা আন্দোলনে অংশগ্রহণ করেন। পরে বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। ছাত্র রাজনীতির কারণে আইয়ুব খানের সামরিক শাসনামলে তাকে ঢাকা কলেজ থেকে বহিষ্কার করা হয়।

তিনি ছাত্রাবস্থাতেই সাংবাদিকতা পেশার সাথে জড়িয়ে পড়েন। বাংলাদেশের একসময়ের সবচেয়ে জনপ্রিয় সাপ্তাহিক বিচিত্রার ১৯৭২ সালে জন্মলগ্ন থেকেই তিনি এ পত্রিকার সঙ্গে জড়িত ছিলেন। মাঝে চীন গণপ্রজাতন্ত্রে বিশেষজ্ঞ হিসেবে, কোলকাতাস্থ বাংলাদেশ উপদূতাবাসে এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ এবং সাংবাদিকতা বিভাগে খণ্ডকালীন শিক্ষক হিসেবে কাজ করেন। রেডিও ও টেলিভিশনে অনুষ্ঠান উপস্থাপনাও করেছেন তিনি। সর্বশেষ ড্যাফোডিল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিকতা ও গণযোগাযোগ বিভাগে তিনি শিক্ষকতায় নিয়োজিত ছিলেন।

মাহফুজউল্লাহ আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিত একজন সক্রিয় পরিবেশবিদ। তার হাত ধরেই বাংলাদেশে পরিবেশ সাংবাদিকতা শুরু হয়।

লেখক হিসেবেও মাহফুজউল্লাহ প্রসংশিত ছিলেন। তার লেখা ৫০-এর অধিক বই পৃথিবীর বিভিন্ন নেতৃস্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের লাইব্রেরিতে সহায়ক গ্রন্থ হিসেবে সংগৃহিত আছে। তাঁর লেখা উল্লেখযোগ্য বইয়ের মধ্যে রয়েছে- ‘প্রেসিডেন্ট জিয়া অব বাংলাদেশ: আ পলিটিক্যাল বায়োগ্রাফি’, ‘যাদুর লাউ’, ‘যে কথা বলতে চাই’, ‘অভ্যুত্থানের ঊনসত্তর’, ‘পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়ন: গৌরবের দিনলিপি (১৯৫২-৭১)’, ‘উলফা অ্যান্ড দ্য ইনসারজেন্সি ইন আসাম’, ‘স্বাধীনতার প্রথম দশকে বাংলাদেশ’। গত বছরের শেষ দিকে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে নিয়ে লিখেন- ‘বেগম খালেদা জিয়া: হার লাইফ হার স্টোরি’।

মাহফুজউল্লাহর ভাই অধ্যাপক ড. মাহবুবউল্লাহ বলেন, আজ পহেলা মে আমার মায়েরও মৃত্যুবার্ষিকী। আপনারা মাহফুজ উল্লাহ জন্য যেমন দোয়া করবেন আমার মায়ের জন্যও দোয়া করবেন। একই সময় তিনি ছোট ভাইকে স্বরণ করে একটি শোকগাঁথা কবিতাও পড়ে শোনান।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।